পামগাছের একটি প্রজাতি প্রথম আবিষ্ককৃত হয় ১৯১৯ সালে। ব্রিটিশ অরণ্যতরুসন্ধানী ড. উইলিয়াম রক্সবার্গ এই প্রজাতিটির নাম দেন করিফা তালিয়েরা (Corypha taliera)। পরে এর বৈজ্ঞানিক নাম হয় ‘করিফা তালিয়েরা রক্সবার্গ’। বাংলায় গাছটিকে ‘তালি’ বা ‘তালি পাম’ নামে ডাকা হয়। গাছটি দেখতে অবিকল আমাদের তালগাছের মতো হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভিন্ন প্রজাতি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই গাছটি প্রথম শনাক্ত করেন উদ্ভিদবিজ্ঞানী শ্যামল কুমার বসু । প্রায় ৭০ বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য ভবনের চত্বরে প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মেছিল গাছটি। ফুল ফোটার পর গাছটি ২০১০ সালে মারা যায়।
মৃতপ্রায় মা-গাছটির পুষ্পমঞ্জরি দণ্ড দেখা দেয় ২০০৮ সালে। এরপর তা থেকে ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে মরণ-ফুল ফোটে। এর পরপরই শুরু হয় তার মরণ-প্রক্রিয়া। এর মধ্যেই সেই ফুল থেকে হয় ফল। সেই ফল থেকে পাওয়া বীজগুলো সংরক্ষণ করে শুরু হয় চারা গজানোর প্রক্রিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘গাছটির যখন ফুল ফুটেছিল, তখন এর প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। কারণ ফুল ফোটার পরপরই গাছটি মারা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ীও এ গোত্রের প্রজাতিগুলোর বীজও সচরাচর অঙ্কুরিত হয় না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে এ তালিপামগাছটির সব বীজের চারাই অঙ্কুরিত হয়েছে।’
গাছটিকে আবারও দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান ও ‘আরবরিকালচার’ দপ্তরের উদ্যোগে এ বিরল প্রজাতির গাছের বীজ সংরক্ষণ করে চারা উৎপাদন করে । এর মধ্য দিয়েই শুরু হবে প্রাকৃতিক পরিবেশে জন্মানো পৃথিবীর একমাত্র তালিপামগাছটির বংশবিস্তারের কর্মসূচি।